Tuesday, May 17, 2011

Healthcare in Bangladesh: only sterilization and vasectomies are free

by Nozrul Islam

The government does not provide any type of health care and all medical treatments are at the expense of the patient. But the arrival of Western medicine has raised the costs and the vast majority of people struggle to buy even an aspirin.

Dhaka (AsiaNews) - In Bangladesh the only form of free health care at all (or almost) is provided by reproductive health centres, funded by the countries from northern Europe and the United States. Vasectomies and tubal ligament are part of government birth control policy: until a few years ago the state paid people who accompanied women to undergo surgery. And often, when a girl has to undergo an intestinal operation, doctors take this opportunity to sterilize them without their knowledge.

This practice led to a social outcry, but similar structures still exist and the birth rate is declining (1.6% in 2010). Bangladesh is one of the most populous countries in the world (162.2 million people), but is paying a high price for the impressive economic progress and modernization that have exploded over the last decade.

The sudden and massive introduction of Western medicine (allopathic), expensive by Bangladeshi standards, has seriously undermined a health system that provides no government assistance and is based only on traditional medicine. Given the apparent effectiveness of "modern" medicines the use of herbs, ointments and kobiraj (magic practices) have declined, causing an increase in demand and, consequently, costs.

Few people have full health care coverage, mostly government employees, and they go to private hospitals or abroad (usually India, Thailand and Singapore). For the remainder, state hospitals that exist in theory should provide free treatment: instead, as well as being insufficient in number, except for a general visit the patient must pay for prescriptions, food, medical and clinical examinations.

People’s awareness has changed - "this medicine is better and it cures me" - but the earning capacity of the population, very poor on average, has not changed. The rich have access to health care and medicine, while the poorest now know that treatment is available, but they can not do anything, because there is no public health care.

There are increasingly frequent and painful cases: people who suffer very minor injuries or illnesses which in itself would not be nothing, bronchial or intestinal forms that become chronic, wounds that degenerate from a minor infection. Especially in the villages, the poorest first attempt to treat themselves with traditional methods, when these prove ineffective, when it is almost too late they turn to the doctor or hospital.

The missions, the Church and the "sick shelters" provide a minimum form of assistance, covering the medical expenses. However, hospitals have discovered the "package" system; for a certain type of operation they ask a certain sum, but then the total balloons because of additional costs (food, blood transfusions, additional days of hospitalization). These end up doubling the price, forcing the missionaries to make painful choices because they are unable to pay for treatment for all.

The state goes someway in supporting leprosy sufferers, occasional vaccinations against rabies and tetanus, awareness campaigns on nutrition and reproductive health centres.

Source: http://www.asianews.it

Friday, May 13, 2011

অবকাশ ভবন নামে বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে-সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ঢাকা রিপোর্ট ডট কম, ঢাকা (১৩ মে):বিভাগীয় শহরসহ অন্যান্য সুন্দর প্রাকৃতিক পরিমণ্ডলে ‘‘আবকাশ ভবন’’ নামে বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে শ্রীমঙ্গলে এ ধরনের একটি বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রবীণ হাসপাতাল, ইনস্টিটিউট ও নিবাসে বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভায় একথা জানান।
তিনি বলেন, বৃদ্ধাশ্রম গুলোতে পারিবারিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য এতিম শিশুর থাকার ও বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে প্রবীণ ব্যক্তিদের জটিল রোগের চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। তারা বিভিন্ন হাসপাতাল হতে কমমূল্যে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন।ডা. মোহাম্মদ আয়াজ উদ্দিন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

বৃদ্ধাশ্রম

জু ল ফি য়া ই স লা ম
অন্ধকার গরাদের জানালার পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন পঁচাত্তর বছরের বৃদ্ধা শেফালী বেগম। এখানে যাঁরা আছেন তাদের বেশিরভাগেরই বয়স আশি, বিরাশি কিংবা ছিয়াশি। লোলচর্ম দেহ, ছানি পড়া চোখ। তবুও পৃথিবীটাকে চেনার ব্যর্থ প্রয়াস। বিগত যৌবনে ফেলে আসা দিনের স্মৃতি, সুখের অলিগলি, স্বামী-সন্তান, নাতি-নাতনিদের থেকে বহুদূরে আজকের এই ঠিকানা।
ছেলে বড় ব্যবসায়ী। দু’হাতে আয় করছে। সাজানো ফ্ল্যাট। কম্পিউটার, রঙিন টিভি, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন, মোবাইল, এসি। কয়েকজন চাকর-বাকর।
বউমা রূপ নিয়ে বড় সচেতন। পার্লার থেকে পার্লারে ঘোরাঘুরি। চড়া মেকআপ। রঙ-বেরঙের সালোয়ার-কামিজ। মাঝে মধ্যে জিন্স প্যান্ট। বিদেশি কোম্পানিতে চাকরি। মা হওয়ার সময় কত কাণ্ড-কারখানা। ছেলে হবে না মেয়ে, তাই নিয়ে জল্পনা-কল্পনা। প্রতি মাসে পরীক্ষা-রিপোর্ট। নাম নিয়ে বাড়াবাড়ি। ছেলে বলে একটা, তো বউ বলে আরেকটা। অবশেষে নাম রাখা হলো অপ্সরা। যদিও নাতনির গায়ের রঙ শ্যামলা। বউমা বাচ্চাকে বুকের দুধ দেয় না। এতে নাকি ফিগার নষ্ট হয়ে যাবে।
সকাল হতে না হতেই ছেলে-বউমা যার যার কাজে বেরিয়ে পড়ে। ঘরের কাজকর্ম তো দূরে থাক। এক গ্লাস পানি ঢেলেও কেউ খায় না। ভোর বেলা পড়ে পড়ে ঘুম। নামাজ-কালামের বালাই নেই এ ঘরে। সেসব এখন দুঃস্বপ্ন। বুড়ি মা যখন কোরআন পাঠে মনোনিবেশ করেন, তখনই ও-ঘরে এরোবিক্স নিয়ে শুরু হয় লমম্ফঝমম্ফ। বাজনার তালে তালে চলে দাপাদাপি। ওদের মর্নিং ওয়াক করার সময় নেই। সূর্যোদয় কবে দেখেছে ওরা, তা বলতে পারবে না।
মাঝে মধ্যে ছেলে-বউমার মধ্যে ইগোর লড়াই, ঝগড়া, কথা কাটাকাটি। তবে রাতের বিছানাই সব সমস্যার সমাধান করে দেয়। শুধু বলির পাঁঠা এই বুড়ি মা। ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া নাতনি হিন্দি সিরিয়ালে মগ্ন। মাঝে মধ্যে বাইকের পেছনে দামড়া ছেলেটার কোমর জড়িয়ে ধরে ঘুরে বেড়ায়। বাবা-মা ডোন্ট কেয়ার।
ছেলের লাভ ম্যারেজ। বড়লোক বাপের বখা মেয়ে। বহু ছেলে চরিয়ে হাতযশ। অবশেষে, ছেলে মুর্গি। বিয়ের পরেও মুর্গির চৈতন্যোদয় ঘটেনি। সর্বক্ষণ কেলিয়ে থাকে। বউমা সহজে মা হতে চায়নি। এতে সহজেই বিছানার মজা চটকে যায়। বছর তিন-চারেক শরীরের খিদে মেটার পর অতএব, নাতনি।
বুড়ি মা এখন ছেলে-বউমার চক্ষুশূল। কথায় কথায় মুখ ঝামটা-ঝামটি। টুকটাক ফাই-ফরমাস খাটা, নাতনিকে কোলে নেয়া থেকে শুরু করে কোরআন পাঠের সময় এরোবিক্স নিয়ে দাপাদাপি মুখ বুজে মেনে নেয়া ছাড়া উপায় কী? বেপরোয়া জীবনের গুরুভার, নাতনির হাইহিলের আওয়াজ, ইংরেজি গানের বেপরোয়া মাতম, হিন্দি সিরিয়ালের অহেতুক তর্জন-গর্জন। ছেলে-বউমার ফ্রি স্টাইল।
ভাগ্যিস চোখের দৃষ্টিশক্তি আর কানের শ্রবণশক্তি হ্রাস। ছেলে-বউমার ঝগড়া, নাতনির দাপাদাপি আর হুল্লোড় সবই ধোঁয়াটে।
অবশেষে ছেলে-বউয়ের ডিসিশনে এই বৃদ্ধাশ্রম। অন্ধকার ঘরে গরাদ দেয়া জানালা। বৃদ্ধার কাছে অতীত কেবলই সঞ্চয়। পেছন ফিরে দেখা। অতীত এখন অ্যালবামের পাতায় সাঁটা মরচেধরা ছবির মতো। আছে কেবল চামড়ার ভাঁজ, ফোকলা দাঁত, বাতের ব্যথা, হাতের লাঠি, আর এই অন্ধকার ঘর। সামনের রাস্তায় ফেরিওয়ালার ডাক, রিকশার টুংটাং। কর্মব্যস্ত শহর। রাতে নিঝুম চুপচাপ, পাহারাদারের হুইসেলের শব্দ।
বাইরের চেনা পৃথিবী বড্ড বাস্তব, বড্ড আনরোমান্টিক। জীবন এ মুহূর্তে বড্ড অচেনা। সম্পর্কগুলো এত ঠুনেকা? জীবন গড়িয়ে চলে নতুন ঠিকানায়। পুরনো মানুষ বড্ড মূল্যহীন। ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র গল্প বলার দিনগুলো কত দ্রুত হারিয়ে যায়। বুকের দুধের নেই কোনো মূল্য। বাসস্থান বদলায়। বদলায় মন। তাই আজ শেফালী বেগমের নতুন ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রম।
সব উত্তরসূরি কি একই রকম? না, এখনও কেউ কেউ আছেন যারা মায়ের ভালোবাসার সামান্য স্পর্শে আজও মাতোয়ারা। তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেয় দৈনন্দিন জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না। বউমা নিজের মেয়ের মতোই সুখ-দুঃখে পাশাপাশি অবস্থান করে। হয়তো কেউ কেউ আছেন, আমাদের সেই ঠিকানা জানা নেই।

বৃদ্ধাশ্রম-নয়..........................

যে মানুষটি নিজের সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, তিনি হচ্ছেন বাবা। বাবা ছাড়া আর কে এমন ত্যাগ স্বীকার করে! বাবা হচ্ছে সন্তানদের প্রথম ও প্রধান পথপ্রদর্শক।
সন্তান যতোই বড় হোক না কেন বাবা-মায়ের কাছে সে সন্তান। সন্তানদের কাছে বাবা-মা থেকে আর বড় কেউ হতে পারে না। বাবাকে আমরা সবসময় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল রেখে প্রতি বছর একুশ জুন ‘বিশ্ব বাবা দিবস’ পালন করে থাকি। এদিন সন্তানরা বাবাকে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দিয়ে দিবসটি পালন করে থাকে।
বাবার জন্য ভালোবাসা : আজ যিনি বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন, একদিন তিনি ছিলেন চঞ্চল এক কিশোর। একসময় যিনি একপাড়া থেকে অন্য পাড়ায় ঘুরে বেড়াতেন, আজ তিনি বারান্দায় যেতেও অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। এ সময় অসহায় শিশুর মতো হয়ে পড়েন। তারা তখন চায় ছেলেমেয়েদের সান্নিধ্য। তারা যখন বৃদ্ধ, অসুস্থ ও দুর্বল, তখন অসহায় হয়ে পড়েন। এ সময় তাদের সঙ্গে সহজ-সরল, নম্র ও সুন্দর ব্যবহার করা উচিত। তাদের সেবায় আমাদের যতœবান হওয়া উচিত।
বাবা যেন সন্তানের কোনো কথায় কষ্ট না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাদের কথাগুলো আমাদের মনোযোগ দিয়ে শোনা উচিত। তাদের মতামতকে সন্তানের অবশ্যই প্রাধান্য দেয়া উচিত। সন্তানরা বাবার শারীরিক ও মানসিক সব সমস্যা বুঝতে চেষ্টা করুক। চেষ্টা করুক বাবার সঙ্গে সবসময় বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে। তাদের প্রতি দয়া ও করুণা না করে একটু ভালোবাসার হাত বাড়ালেই তারা খুশি।
একদিন যে সন্তানের জন্য বাবা ছিলেন স্নেহময়, যে সন্তান একটু আঘাত পেলেই বাবা হয়ে উঠতেন চিন্তিত। যে সন্তানকে নিজে হাত দিয়ে খাইয়ে দিয়েছেন, কোলে-পিঠে করে মানুষ করেছেন এবং কখনই নিজের অসুবিধার কথা সন্তানদের বুঝতে দেননি। আজকাল সমাজে এমন কিছু সন্তান দেখা যায়, যারা কি না বাবার এতোসব আদর-যতেœর কথা ভুলে বাবাকে ঠেলে দেয় অজানা গন্তব্যে। বৃদ্ধ ও অসহায় বলে তাদের ঠিকানা হয় বৃদ্ধাশ্রমে। ঘরের মধ্যে সবার থাকার জায়গা হলেও এখানে বৃদ্ধ বাবার জায়গা হয় না। আসলে একজন বাবা তার সন্তানদের জন্য যা করেন, তা তাদের পক্ষে সারা জীবনেও শোধ করা সম্ভব নয়। বুড়ো বয়সে এসে তারা চায় একটু শান্তি, ভালোবাসা ও স্নেহ। এ বয়সে একটু আদর-যতœ পেলেই তারা খুশি হন। বাবা চান সন্তানরা যেন তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনে।
আমাদের মনে রাখা উচিত আজ যিনি সন্তান, তিনিই আগামী দিনের পিতা। বৃদ্ধ বয়সে এসে বাবারা যেহেতু শিশুদের মতো কোমলমতি হয়ে যায়, তাই তাদের জন্য সুন্দর জীবনযাত্রার পরিবেশ তৈরি করাই সন্তানের কর্তব্য। আর যেন কখনো কোনো বাবার ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রম না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। তাদের জন্য তৈরি করতে হবে একটা নিরাপদ ও সুন্দর পৃথিবী।
কিভাবে পালন করবেন বাবা দিবস :
দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার কারণে সন্তানদের অনেক সময় পরিবারে সময় দেয়া হয় না। এতে মা-বাবা, ভাইবোনদের মধ্যে তৈরি হয় দূরত্ব। বাবা দিবসের এদিন যে যেখানেই থাকুন না কেন, সবাই একসঙ্গে এসে বাবাকে সারপ্রাইজ দিতে পারেন। এদিন আপনি আপনার বাবাকে নানা ধরনের উপহার সামগ্রী দিতে পারেন, যাতে তিনি খুশি হন। মা-বাবা, ভাইবোন মিলে সারাদিন গল্প ও একসঙ্গে খায়া-দাওয়া করে সময় কাটান। বাবাকে কেন্দ্র করে এদিন নানা রকম পিঠা-পায়েস তৈরি করা যেতে পারে। বিকালে পরিবারের সব সদস্য একত্রে শিশুপার্ক, জাদুঘরসহ ঢাকার উন্মুক্ত পার্কগুলো থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেন। এতে বাবার মতো বৃদ্ধরা মনের দুর্বলতা কাটিয়ে সতেজ ও ফুরফুরে মেজাজে থাকবে। এ বয়সে বাবারা ছেলেমেয়েদের একটু সান্নিধ্য পেলে খুশিই হয়।
ওবায়দুল হান্নান রিয়াজ


Related Link:

চাঁদপুরে এই প্রথম নির্মিত হলো বৃদ্ধাশ্রম


Thursday, May 12, 2011

জীবন বাঁচাতে স্বেচ্ছায় রক্ত দিন: ব্লাড ব্যাংকের তথ্য

জীবন বাঁচাতে স্বেচ্ছায় রক্ত দিন

মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান | তারিখ: ০৭-০৫-২০১০

আল্লাহ তাআলা মানবজাতির উপকার ও জীবন রক্ষার্থে বিভিন্ন বস্তুর মধ্যে নানা ধরনের উপযোগ সৃষ্টি করে রেখেছেন। মানুষকে গভীর চিন্তা-ভাবনা ও অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি নিবদ্ধ করে গবেষণার দ্বারা এর ব্যবহার পদ্ধতি বের করে নিতে হয়। বিজ্ঞান অত্যন্ত সমৃদ্ধ হয়ে এ বিষয়টি খুব সহজ হয়ে গেছে। তাই চিকিৎসাবিদ্যা যত উন্নত হবে মানবসেবা তত নিশ্চিত হবে। সমাজে চিকিৎসকেরা নানাভাবে মানবসেবা করে যাচ্ছেন, এ জন্য তাঁরা সাধুবাদ গ্রহণের পাশাপাশি সৎ নিয়ত ও আন্তরিকতা দ্বারা বাহ্যত জাগতিক কাজগুলোকেও ইসলামসম্মত কাজ বানিয়ে নিতে পারেন। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি পৃথিবীর সবকিছু তোমাদের উপকারের জন্য সৃষ্টি করেছেন।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত- ২৯)
চিকিৎসা বিজ্ঞানের সঙ্গে ইসলামের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। ফলে যুগে যুগে অসংখ্য মুসলিম মনীষী পবিত্র কোরআন ও হাদিস গবেষণা করে নিজেদের এ শাস্ত্রের পথিকৃৎ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। আধুনিক বিজ্ঞান চিকিৎসাব্যবস্থাকে অকল্পনীয় সহজলভ্য করে দিয়েছে। আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমতে মুষ্টিমেয় কিছু দুরারোগ্য ব্যাধি ছাড়া প্রায় সব রোগের চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়েছে। এ জন্য ওষুধ প্রয়োগ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাঁর বিধি-নিষেধের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সুবিবেচনা কাম্য। অবশ্য অনন্যোপায় হলে জীবন রক্ষার্থে হারাম বস্তুও প্রয়োজন অনুযায়ী হালাল হিসেবে গণ্য হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ সব রোগের প্রতিষেধক সৃষ্টি করেছেন, সুতরাং তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর এবং চিকিৎসা গ্রহণে হারাম বস্তু ও পন্থাকে বর্জন কর।’ (আবু দাউদ)
আবহমানকাল ধরে চিকিৎসা বিজ্ঞানে মানবদেহের জন্য রক্তের ব্যবহার ব্যাপক। মানবসেবায় রক্তদান এবং রক্ত গ্রহণের আগে শরিয়তের সিদ্ধান্ত জেনে নিলে নেককাজে বিশেষভাবে আগ্রহ জন্মাবে। ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষের মূল্যবান জীবন ও দেহ সুরক্ষায় রক্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য তরল উপাদান। যেকোনো দুর্ঘটনায় শরীর থেকে রক্ত ঝরে গেলে দেহের অভ্যন্তরে অন্ত্র বা অন্য কোনো অঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ হলে অস্ত্রোপচারে রক্তের অপচয় বেশি হলে, পোস্ট অপারেটিভ কেয়ারে পুড়ে যাওয়া রোগীর যাদের হেমোডায়ালাইসিস চলছে তখন রক্তের খুব প্রয়োজন। অপারেশনের সময়, বড় ধরনের দুর্ঘটনার মতো নাজুক অবস্থায় রক্ত দেওয়া আবশ্যিক হয়ে পড়ে। মানবদেহে রক্তশূন্যতার জন্য রক্ত গ্রহণের যেমন বিকল্প নেই, তেমনি রক্তের চাহিদা পূরণের জন্য রক্ত দেওয়া ও বিক্রয় বৈধ নয়। তবে বিনামূল্যে রক্ত না পেলে রোগীর জন্য রক্ত ক্রয় করা বৈধ, কিন্তু এতে বিক্রেতা গুনাহগার হবে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক রোগের ওষুধ আছে। সুতরাং যখন রোগ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা হয়, তখন আল্লাহর হুকুমে রোগী আরোগ্য লাভ করে।’ (মুসলিম)
স্বেচ্ছায় রক্তদানে অন্য মানুষের মূল্যবান জীবন রক্ষা পায় এবং নিজের জীবনও ঝুঁকিমুক্ত থাকে। নিয়মিত রক্ত দিলে নিজের জীবনও ঝুঁকিমুক্ত রাখা সম্ভব হবে। সৎকাজ ও নেক নিয়তের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে যথাযথ প্রতিদানও মিলবে। নিয়মিত রক্ত দিলে প্রাথমিক অবস্থাতেই রোগ-ব্যাধি ধরা পড়ে। এ জন্য প্রথম অবস্থাতেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। একজন সুস্থ লোকের রক্তের বিনিময়ে অন্য একজন অসুস্থ ও মুমূর্ষু ভাইয়ের জীবন রক্ষা পেলে শরিয়ত অনুমোদিত হওয়ায় আগ্রহচিত্তেই তা দেওয়া উচিত। মানবতার উপকার ও জীবন রক্ষার্থে রাসূলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘তোমাদের কেউ তার অপর ভাইয়ের উপকার করতে সক্ষম হলে সে যেন তা করে।’ (মুসলিম)
স্বেচ্ছায় রক্ত দেওয়ার জন্য অনেক মানুষের আগ্রহ আছে। কিন্তু সমন্বয়ের জন্য রক্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। বাংলাদেশে প্রতি বছর পাঁচ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হলেও এর মাত্র ২৫ ভাগ স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতার মাধ্যমে আসে। ৫০ ভাগ রিপ্লেসমেন্ট ডোনার বা আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনের মাধ্যমে এবং বাকি ২৫ ভাগ পেশাদার রক্তদাতার কাছ থেকে সংগৃহীত হয়। পেশাদার রক্তদাতারা এক-দুই মাস অন্তর বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে রক্ত দেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের শরীর অপুষ্ট থাকে। তাঁদের দেহে যৌনবাহিত ও রক্তবাহিত বিভিন্ন রোগ থাকতে পারে। কারণ তাঁরা অনেকে মাদকাসক্ত ও অনিরাপদ জীবনযাপন করেন। পক্ষান্তরে অপেশাদার রক্তদাতারা অর্থের বিনিময়ে নয়, রোগীর প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্ত দিয়ে থাকেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা রোগ এবং ওষুধ দুটিই পাঠিয়েছেন এবং প্রতিটি রোগেরই ওষুধ প্রেরণ করেছেন। সুতরাং তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। তবে হারাম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা করো না।’ (মিশকাত, সুনানে আবু দাউদ)
মানবজীবন রক্ষায় স্বেচ্ছায় রক্তদান ইসলাম পরিপন্থী নয়। স্বেচ্ছায় রক্তদান সব ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজের শীর্ষে অবস্থান করছে। ১৮ থেকে ৫৫ বছর পর্যন্ত যেকোনো সুস্থ-সবল মানুষ তিন মাস অন্তর রক্ত দান করতে পারে, এতে শারীরিক কোনো ক্ষতি হয় না। রক্ত দেওয়ার সময় যদি কোনো রোগ-ব্যাধি যেমন জ্বর, ফোঁড়া প্রভৃতি থাকে এবং কোনো ধরনের এন্টিবায়োটিক চলে, তবে ওই মুহূর্তে রক্ত না দেওয়াই ভালো। কারও রক্তে যদি হেপাটাইটিসের জীবাণু ধরা পড়ে এবং উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তবে তাকেও রক্তদানে নিরুৎসাহিত করা হয়। যে রক্তে রক্তবাহিত রোগ যেমন হেপাটাইটিস বি ও সি, এইচআইভি, সিফিলিস ও ম্যালেরিয়া অনুপস্থিত থাকে সাধারণত সে রক্তই নিরাপদ রক্ত। কাউকে রক্তদানের আগে রক্তাদাতার কোনো অসুখ আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য গবেষণাগারে স্ক্রিনিং পরীক্ষা করা হয়। রক্তে অন্তত ১০ গ্রাম/ডেসিলিটার হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম থাকলে রক্তগ্রহীতার শরীরে রক্ত কোনো কাজে আসে না। কারণ রক্ত দেওয়ার মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে ভলিউম বা পরিমাণ প্রতিস্থাপন এবং লোহিত রক্তকণিকা (যাতে হিমোগ্লোবিন থাকে) প্রতিস্থাপন। এ লোহিত কণিকার আয়ুষ্কাল ১২০ দিন বা চার মাস। তাই চার মাসের আগে রক্ত দেওয়া নিরাপদ নয়। তাহলে রক্তের মধ্যে শ্বেতকণিকা ও অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট থাকে না। রক্তদানের জন্য পুরুষের ন্যূনতম ওজন ৫০ কেজি বা ১০০ পাউন্ড এবং নারীর ৯৫ পাউন্ড হওয়া বাঞ্ছনীয়।
ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের জীবন বাঁচাতে রক্তের কোনো বিকল্প নেই। রক্ত বেশি দিন সংরক্ষণ করে রাখা যায় না। তাই জরুরি মানবিক প্রয়োজনে রক্ত দেওয়ার জন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণ দলমত নির্বিশেষে সবার মানসিক প্রস্তুত থাকা উচিত। রক্তের সীমাহীন চাহিদা পূরণের জন্য ব্লাড ব্যাংকের ব্যবস্থা করা এবং স্বেছায় রক্তদান কর্মসূচি গ্রহণ করা একটি কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে। স্বেচ্ছায় রক্তদানের জন্য মানুষ যথেষ্ট আগ্রহী হলেও উদ্বুদ্ধকরণ উল্লেখযোগ্য নয়। ব্লাড ব্যাংকের অন্যতম সংগঠন কোয়ান্টাম উদ্বুদ্ধকরণ ও সচেতনতার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সংগঠন ‘সন্ধানী’ ও ‘রেড ক্রিসেন্ট’-এর ব্লাড ব্যাংক রয়েছে। বাঁধন, লায়ন্স ক্লাব ও অরকা ডোনার সংগ্রহের কাজ করে থাকেন। রক্ত সংগ্রহের পাশাপাশি এগুলো সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সমাজের ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি, মসজিদের ইমাম-খতিব ও আলেমসমাজের অগ্রণী ভূমিকা পালন করা উচিত। মুমূর্ষু লোকের জীবন রক্ষা ও জনসেবামূলক কাজে যেহেতু ধর্মীয় বিধি-নিষেধ নেই, সেহেতু নাগরিক সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে রক্তদান বিষয়ক প্রচার, সেমিনার এবং ব্লাড ডোনেশন ডের মতো সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ একান্ত বাঞ্ছনীয়।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমী, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)। dr.munimkhan@yahoo.com

রক্তদানের গুরুত্ব …

রক্তদান কোন কঠিন বা দুঃসাহসের কাজ নয় । ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী যে কোন সুস্থ , নীরোগ মানুষ ( পুরুষের ক্ষেএে ওজন কমপক্ষে ৪৮ কেজি , মেয়েদের ক্ষেএে ওজন কমপক্ষে ৪৫ কেজি ) । প্রতি চার মাস পরপর এক ব্যাগ রক্ত দিতে পারেন । এতে আপনার শারীরিক ক্ষতির কোন সম্ভব না নাই ।রক্ত দানের জন্য সাধারণ খাওয়া-দাওয়ায় যথেষ্ঠ । তবে রক্তদানের আগে ও পরে একটু বেশী পরিমানে পানি পান করবেন । রক্তদানের পর কিছু সময় বিশ্রাম নিবেন । এরপর দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজ করতে কোন বাধা নাই ।একজন মানুষের শরীরে থাকে সাড়ে ৫ থেকে ৬ লিটার রক্ত । এক ব্যাগ রক্ত দান করা মানে ৩৫০ থেকে ৪৫০ মিলিলিটার রক্ত দান করা । রক্তরস বা প্লাজমার অভাব পূরণ হয়ে যায় বেশী পরিমান পানি পানের মাধ্যমেই । লোহিত কণিকা ১২০ দিন পরপর প্রতিস্থাপিত হয় । অথাৎ আপনি রক্ত দিন বা না দিন,১২০ পর সেটি মরে যাই এবং নতুন লোহিত কনিকা জন্ম নেয় । বিশুদ্ধ রক্ত পাওয়ার আশায় আমাদের দেশের মানুষ সন্ধানী , রেড কিসেন্ট , অরকা, বাধন, কোয়ান্টাম প্রভূতি সংগঠনের দ্বারস্থ হয় । এসব সংগঠন কিন্তু রক্ত তৈরী করে না । স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের দান করা রক্ত সরবরাহ করার মাধ্যম হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান । মানুষ যত বেশী রক্ত দিবে , এসব সংগঠন তত বেশী বিশুদ্ধ রক্ত সরবরাহ করতে পারবে । তাই স্বেচ্ছায় রক্ত দানে এগিয়ে আসুন । আপনার রক্তে বেচে থাকুক একটি সম্ভবনাময় প্রাণ ।।।

- সাইভার ওয়ার্ল্ড
http://www.tunerpage.com/

ব্লাড ব্যাংকের তথ্য
রক্তের গ্রুপ আপনার যাই হোক না কেন, প্রয়োজনের সময় রক্ত প্রাপ্তি অথবা দান সম্পর্কিত যে কোন তথ্য থেকে কখনোই দুরে নন আপনি । গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন হলে আপনার বাংলা লিংক মোবাইল থেকে ডায়াল করুন ৮০৮০ নম্বরে, আর জেনে নিন নিকটস্থ রক্ত দান কেন্দ্র, হাসপাতাল অথবা রক্তদাতাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য । কলচার্জ প্রথম ৩ মিনিট ১৫ টাকা, পরবর্তী প্রতি মিনিট ৫ টাকা । ভ্যাট প্রযোজ্য ।

দু:সময়ের জন্য রক্ত সঞ্চয় করে কোয়ান্টাম

কোয়ান্টাম স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রম সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ রক্তের একটি প্রধান নির্ভরযোগ্য কেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে। দু:সময়ে রক্ত নিয়ে সকলের পাশে আছে কোয়ান্টাম। ১৯৯৬ সালে শুরু হয় কোয়ান্টামের স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রম। স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমে কোয়ান্টাম ১৪ এপ্রিল ২০০০ সালে নিজস্ব আধুনিক ল্যব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নতুন ভাবে যাত্রা শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তি ও আপোষহীন মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সমৃদ্ধ কোয়ান্টাম ল্যাব ২৪ ঘণ্টা সেবা দিচ্ছে। গত ৯ বছরে কোয়ান্টাম ল্যাব সরবরাহ করেছে প্রায় দুই লক্ষ ব্যাগ নিরাপদ রক্ত ও রক্ত উপাদান। গড়ে তুলেছে ১৪ হাজার জীবন ও ৮২ হাজার অনিয়মিত রক্তদাতার ডোনার পুল। আপনার দেয়া এক ব্যাগ রক্ত আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে রক্ত উপাদানে বিভাজিত হয়ে বাঁচাতে পারে ৪টি প্রাণ। তাই বন্ধু ও আত্মীয়দের রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করুন।

কোয়ান্টাম রক্ত কার্যক্রমের বিশেষত্ব

প্রতি ইউনিট রক্ত ও এর উপাদান স্বেচ্ছা দান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (who) নির্ধারিত মৌলিক ৫টি স্ক্রিনিং (হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, সিফিলিস, এইডস এবং ম্যালেরিয়া) বাধ্যতামূলকভাবে সম্পন্ন করা হয়। এগুলোর যে কোনোটির জীবাণু সম্পর্কে কোনোরকম সংশয় বা প্রশ্ন দেখা দিলে সে রক্তের ব্যাগ সাথে সাথে বাতিল বা ধ্বংস করা হয়। এই আপসহীন মনোভাবের কারণে ল্যাব থেকে সরবরাহকৃত রক্তের ব্যাপারে সারা দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এখন পুরোপুরি আস্থাশীল।

নিখুঁত ক্রস-ম্যাচিং অর্থাৎ থ্রি-ফেজ কম্প্যাটিবিলিটি (কক্ষ তাপমাত্রায়, ৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এবং ইনডাইরেক্ট কুম্বস টেস্ট) টেস্ট করা হয়।

FDA অনুমোদিত উন্নতমানের (CPDA-১) ব্যাগে সযত্নে সংগৃহীত ও নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষিত।

নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশেষজ্ঞদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ল্যাব-এ রয়েছে সেল সেপারেটর সেন্ট্রিফিউজ মেশিন, -৯০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রার ডিপ ফ্রিজ, প্লাটিলেট ইনকিউবেটর এবং এলাইজা মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রপাতি।

রক্তদাতাকে প্রদেয় সেবা

প্রতিবার রক্তদানের পর রক্তদাতা উপহার হিসেবে পাচ্ছেন রক্তবাহিত ৫ টি রোগের (হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, সিফিলিস, এইডস এবং ম্যালেরিয়া) স্কিনিং রিপোর্ট।

রক্তদাতা রক্তদানের পরই পাবেন ডোনার কার্ড।
রক্তদাতা নিজ দেহের প্রয়োজনে জমাকৃত প্রতি ব্যাগ রক্ত ফেরৎ পাবেন কোন প্রসেসিং খরচ ছাড়া । অর্থাৎ রক্তের ব্যাগ ও স্ক্রিনিং করচ বাবদও কোনো অর্থ দিতে হবেনা । অতিরিক্ত (সঞ্চিত রক্তের সম পরিমাণ) প্রতি ইউনিটে প্রসেসিং খরচ মাত্র ৫০%।
রক্তদাতা তার মা-বাবা, স্বামী/স্ত্রী বা সন্তানের জন্য প্রসেসিং খরচে (সঞ্চিত রক্তের সম পরিমাণ) ছাড় পাবেন ২০%।
তিনবার রক্তদানের পর আজীবন রক্তদানের প্রতিশ্রুতি দিলে রক্তদাতা পাবেন সিরামিকসে মুদ্রিত সুদৃশ্য সম্মননা স্মারক এবং বিশেষ আইডি কার্ড ও সনদপত্র।
১০ বার রক্তদান করে লাইফ লং ব্লাড ডোনার সিলভার ক্লাব-এর সদস্য হলে রক্তদাতা পাবেন বিশেষ সম্মাননা মেডেল, আইডি কার্ড ও সনদ পত্র।

নিরাপদ রক্তের জন্যেই কোয়ান্টাম
সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কোয়ান্টাম ল্যাব প্লাটিলেট কনসেনট্রেট, ফ্রেশ প্লাজমা, ফ্রেশ ফ্রোজেন প্লাজমা, প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা, প্লাটিলেট পুওর প্লাজমা, প্রোটিন সলিউশন, আরসিসি, ক্রায়ো-প্রিসিপিটেট অর্থাৎ রক্তের ৮টি উপাদান সরবরাহ করছে। ফলে ডেঙ্গু, আইটিপি, থ্যালাসেমিয়া, ব্লাড ক্যান্সার, হিমোফিলিয়া, লিউকেমিয়া, আগুনে পোড়া, সিভিয়ার এনিমিয়াসহ যেকোনো রোগীর প্রয়োজনীয় রক্ত ও রক্ত উপাদানের জন্যে নিঃসঙ্কোচে যোগাযোগ করলে কোয়ান্টাম ল্যাব রক্ত সরবরাহ করে থাকে।

কোয়ান্টাম ল্যাব-এর ঠিকানা
স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রম কোয়ান্টাম ল্যাব
৩১, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সড়ক (১১৯, পুরোনো শান্তিনগর ), ঢাকা-১২১৭ (ইস্টার্নপ্লাস মার্কেটের পূর্ব পাশে)
ফোন: ৯৩৫১৯৬৯, ৮৩২২৯৮৭, ০১৭১৪-০১০৮৬৯
ই-মেইল: blood@quantummethod.org.bd
ওয়েব সাইট: www.quantummethod.org

সন্ধানী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

সন্ধানী বাংলাদেশের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ১৯৭৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশে স্বেচ্ছায় রক্তদান আন্দোলনের পথিকৃৎ "সন্ধানী"। বন্ধুর প্রতি ৬ জন উদ্যমী তরুণের অকৃত্রিম ভালবাসা থেকে জন্ম নেয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রটি। আর্থিক অনটনে জর্জরিত ২য় বর্ষের এক ছাত্রের সকালের নাস্তার টাকা যোগাড় করে দেয়ার মাধ্যমে হঠাৎ করেই সন্ধানীর আত্মপ্রকাশ। আত্মপ্রকাশের পরবর্তী এক বছর বিভিন্ন ধরনের সমাজসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করলেও ‘স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী’ সন্ধানীর কার্যক্রমের আওতাভুক্ত ছিল না। ১৯৭৮ সালের ২রা নভেম্বর ডিএমসিএইচ ব্লাড ব্যাংকে সন্ধানী প্রথমবারের মত ‘স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর’ আয়োজন করে এবং পরবর্তীতে এই দিনটিকেই ‘জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস’ হিসেবে পালন করার ঘোষণা দেয়া হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে সন্ধানীর ১৮টি ইউনিট বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে একযোগে কাজ করছে। সন্ধানী মূলত মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ছাত্রছাত্রী দ্বারা পরিচালিত একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালিত হয় ঐ নির্দিষ্ট ইউনিটের ছাত্রদের নিয়ে গঠিত ২৩ সদস্যের একটি কার্যকরী কমিটির মাধ্যমে আর সবগুলো ইউনিটকে সমন্বয় করার জন্য গঠন করা হয়েছে একটি ‘কেন্দ্রীয় পরিষদ’। সন্ধানীর সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি ও সন্ধানী ডোনার ক্লাব সমূহ। প্রতিবছর সন্ধানী গড়ে ৪০,০০০ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে। যা দেশের চাহিদা অনুযায়ী অনেক কম হলেও দেশের রক্তের অভাব পূরণে এক দৃঢ় ভূমিকা পালন করছে।


Monday, April 18, 2011

সিকদার ওমেন্স মেডিক্যাল কলেজ গরিবদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেবে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সপ্তাহে একদিন দুস্থ ও হতদরিদ্রদের বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং ওষুধ প্রদান করবে জয়নুল হক সিকদার ওমেন্স মেডিক্যাল কলেজ এ্যান্ড হসপিটাল। প্রতি শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ সেবা প্রদান করা হবে। এ জন্য কলেজের শিৰার্থীদের নিয়ে জেড এইটিন ইনিসিয়েটিভ নামের একটি সংগঠন গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংগঠনের তহবিলে ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে। আগামীতে এই তহবিল থেকে এতিম শিশুদের থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা এবং শিৰা ব্যয়ও বহন করা হবে। সংগঠন পরিচালনা করবেন জয়নুল শিকদারের নাতনি মেন্ডি সিকদার।
রবিবার কলেজের অডিটোরিয়ামে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন জয়নুল হক সিকদার ওমেন্স মেডিক্যাল কলেজ এ্যান্ড হসপিটাল ও ন্যাশন্যাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জয়নুল হক সিকদার ওমেন্স মেডিক্যাল কলেজ এ্যান্ড হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ারা হক সিকদার, ভাইস চেয়ারম্যান পারভীন হক সিকদার, পরিচালক লিসা হক সিকদার, ন্যাশনাল ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর একেএম শফিকুর রহমান, কলেজের অধ্যৰ অধ্যাপক আবু শামিম প্রমুখ।
উদ্বোধনের সময় জয়নুল হক সিকদার ডাক্তারদের উদ্দেশে বলেন, যারা বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে আসবে তাদের যেন কোনভাবে কষ্ট পেতে না হয়। গরিব ও অসহায় মানুষদের আনত্মরিকতার সঙ্গে চিকিৎসা প্রদানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এর বিনিময়ে ডাক্তারদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া আগামী দিনে মানুষের কল্যাণে আরও কাজ করার প্রতিশ্রম্নতি দেন তিনি। এই সেবা কাজকে দীর্ঘায়িত এবং এর কর্মকা- আরও বিসত্মীর্ণ করতে সর্বাত্মক সহায়তা করার আশ্বাস দেন জয়নুল হক সিকদার।
কলেজের অধ্যৰ অধ্যাপক আবু শামিম এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কলেজের পৰ থেকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রতি দেন।
ন্যাশনাল ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর একেএম শফিকুর রহমান ডাক্তারদের সমালোচনা করে বলেন, এক সময় ডাক্তারী পেশা সেবামূলক থাকলেও এখন অনেক ডাক্তার সে অবস্থা থেকে সরে এসেছেন। বর্তমানে বেশিরভাগ ডাক্তার স্বার্থসংশিস্নষ্ট কাজে ব্যসত্ম থাকেন। এর মাঝে দরিদ্র মানুষের সেবার জন্য শিৰানবিস ডাক্তারদের এ ধরনের উদ্যোগ প্রমাণ করছে, নতুন প্রজন্ম আবার ডাক্তারী পেশাকে সেবামূলক পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

Source: Daily janakantha
১৮ এপ্রিল ২০১১

Monday, March 28, 2011

বান্দরবানে আনসার ভিডিপি সদস্যদের জন্যে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প শুরু

আয়োজিত ক্যাম্পে আনসার ভিডিপি সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে





















বান্দরবানে আনসার ভিডিপি সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আওতায় বান্দরবানের সাতটি উপজেলার প্রায় ১১ শ' আনসার ভিডিপি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। আজ সোমবার সকালে বান্দরবান জেলা আনসার ভিডিপি কার্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনীর সদর জোনের কমান্ডার লে. কর্নেল মোঃ সাইদ সিদ্দিকী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আনসার এ্যাডজুটেন্ট নুরে আলম সিদ্দিকী। এছাড়া অনুষ্ঠানে আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। পরে চিকিৎসকরা গ্রাম ভিডিপি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান ও তাদের মাঝে ঔষধ বিতরণ করেন।
আগে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি আনসার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেলেও ভিডিপি সদস্যরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এখন থেকে ভিডিপি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রতিবছর বিনামূল্যে আনসার কার্যালয় থেকে চিকিৎসা সেবা পাবেন। এর ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের দূর্গম এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পে ও গ্রাম প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত ভিডিপি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা সেবার আওতায় এলেন।


সোমবার, ২৮ মার্চ, ২০১১

Monday, March 14, 2011

স্বাস্থ্য সেবায় মোবাইল ফোন

অসুস্থ্য মাকে নিয়ে কালাম মিঞার যত দুঃশ্চিন্তা। গত দশ বছরে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত কালাম মিঞার মায়ের ইদনিং যুক্ত হয়েছে প্রচন্ড মাথা ব্যথা। গত একমাস যাবত প্রচন্ড মাথা ব্যথায় প্রায় প্রায় সজ্জাসায়ি হতে হয় তাকে। সন্তানের কাছে মায়ের একটি আবেদন এই শেষ বয়সে ঢাকায় এনে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। কালাম মিঞায়র মত এক জন নিম্ন মধ্যবিত্ত লোকের জন্য সংসারের খরচ চালিয়ে, মায়ের চিকিৎসা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মায়ের শেষ অনুরোধটুকু রক্ষা করার জন্য তার শেষ সম্বল জমির কিছু অংশ বন্ধক রেখে ঢাকা এসে চিকিৎসা করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সে জানেনা কোথায় যাবে, কার কাছে যাবে এবং কি ভাবে চিকিৎসা করবে। অবশেষে মাকে নিয়ে এম্বুলেন্স ভাড়া করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং ড্রাইভারের পরামর্শে একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন ও অবশেষে সর্বসান্ত হয়ে ভুল চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়।

সঠিক তথ্যের অভাবে আমাদের দেশে এভাবে বহু রোগী প্রতিদিন সর্বসান্ত হয়ে যাচ্ছে।স্বাস্থ্য খাতে মোবাইল ফোনই পারে এসকল রোগীদের সঠিক তথ্য প্রদান করে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে। আমাদের দেশে যেখানে শতকরা ৭০ ভাগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বড় বড় শহরগুলোতে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে অন্যদিকে দেশের ৭০ ভাগ গ্রাম ও উপজেলায় বসবাস করার জন্য দেশের এ সকল অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

নদীমাতৃক আমাদের এই দেশে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা যতটা উন্নয়ন হয়নি তার চেয়ে অনেক বেশী উন্নয়ন হয়েছে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা। এই টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে Mobile Health System (mHealth system ) ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একদল অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও কম্পিউটার বিশেষজ্ঞের মেধা ও আন্তরিকতাই পারে এসকল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা পৌছে দিতে। বিশ্বের অনেক উন্নয়শীল দেশে এই মোবাইল ফোনকে কাজে লাগিয়ে (mHealth system) এর মাধ্যমে দরিদ্র জন গোষ্ঠির মাঝে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা পৌছিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা আনুমানিক ৭০ লক্ষ। তাই এই মোবাইল ফোন দিয়ে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্রামে বসবাসকারী দরিদ্র জনগোষ্ঠির মধ্যে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে সঠিক ধারনা দেওয়া যেতে পারে। তাই আধুনিক এই সিস্টেম ব্যবহার করে সরকার স্বাস্থ্য খাতকে অল্প সময়ে ও অল্পখরচে ডিজিটালাইজড করতে পারবে।

কি ভাবে সম্ভব

ATI MobiHealth নামক একটি mobile application software যা মোবাইল ফোনে Install করে বাংলাদেশে বর্তমানে মোবাইল নেটওয়ার্ক সিস্টেমটি ব্যবহার করে আমাদের দেশের ইঞ্জিনিয়ার ও ডাক্তারাই পারবে mHealth (Mobile Health System) সিষ্টেম চালু করতে। এই সিষ্টেম দ্বারা একজন রোগী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অতি অল্প খরচে সহজে ডাক্তার, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক ল্যাব ও ঔষধ সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেতে পারে, যার মাধ্যমে রোগী অতি সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং ডাক্তারগন রোগীদের চিকিৎসা সেবা পৌছাতে পারবেন।

কি কি প্রয়োজন

মোবাইল ফোন, mobile application software (ATI MobiHealth) মোবাইল নেটওয়ার্ক, ও ডাটা সংরক্ষন এর জন্য Central Server। যা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কোন একজন রোগীর অনুসন্ধান Central Server থেকে সংগ্রহ করতে পারবে ।

mHealth সিষ্টেম থেকে কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে

  • স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা যাবে।
  • দেশের অনুন্নত জায়গা গুলো থেকে স্বাস্থ্য বিষয়ক ডাটা সংগ্রহ করা যাবে।
  • কোন রোগের জন্য কোন ডাক্তার কখন ও কোথায় রোগী দেখেন এসম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে।
  • অতি সহজেই বিষেশঞ্জ ডাক্তারের Appointment নেওয়া যাবে।
  • কোন হাসপাতালে কি ধরনের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয় সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে।
  • বিভিন্ন দুর্ঘটনায় জরুরী চিকিৎসা যেমন সাপে কাটা ইত্যাদি সম্পর্কে চিকিৎসা পাওয়া যাবে।
  • কোন ল্যাব এ কি কি ধরনের টেস্ট হয় তার সম্পর্কে তাৎক্ষনিক তথ্য পাওয়া যাবে।
  • অনুন্নত জায়গায় কোন রোগ সম্পর্কে আগাম সতর্কতা জানানো যাবে।
  • খাদ্য ও পুষ্টি সম্পর্কে দরিদ্য জনগোষ্টির মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যাবে।

ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জাহিদুল হাসান
সিনিয়র সিস্টেম এ্যানালিষ্ট ও বিভাগীয় প্রধান
ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট ইউনিট
বারডেম হাসপাতাল, শাহবাগ, ঢাকা
email: jahid@dab-bd.org

Thursday, March 10, 2011

Low cost and free Kidney treatment in KAMPS, Bangladesh



কিডনি বিকল হয়ে ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু হয় তৌফিক মারুফবাংলাদেশে প্রতি ঘণ্টায় পাঁচজন মানুষ কিডনি বিকল হয়ে মারা যান। এ ছাড়া দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে ভুগছেন। তার পরও কিডনি রোগের চিকিৎসাব্যবস্থায় লক্ষণীয় উন্নতি নেই। অবস্থা একেবারেই নাজুক। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কিডনি রোগীদের নাগালের বাইরেই রয়ে গেছে চিকিৎসাব্যবস্থা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. শিফায়েতুল্লাহ এ পরিস্থিতির সঙ্গে একমত পোষণ করে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'দেশে ক্যান্সার ও হৃদরোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আমরা অনেকদূর এগিয়ে গেছি। সেই তুলনায় কিডনি চিকিৎসাব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে বলে আমার নিজেরও উপলব্ধি। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণ ঘটাতে না পারলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে সাফল্য আসবে না।'
বিএমএর সাবেক সভাপতি ও জাতীয় স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, 'এ দেশে কিডনি রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বহন করা বেশির ভাগ মানুষের জন্যই খুব কঠিন। এর ওপরে সরকারি হাসপাতালগুলোতে যেসব পদক্ষেপ রয়েছে, তা-ও নানান অব্যবস্থাপনার কারণে সচল থাকছে না। যন্ত্রপাতি ক্রয়ের অস্বচ্ছতার কারণে অনেক স্থানেই অনেক যন্ত্রপাতি অসময়ে বিকল হয়ে পড়ে।'
আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিক অ্যান্ড কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালাহ উদ্দিন মাহমুদ দেশে প্রতি ঘণ্টায় পাঁচজন মানুষ কিডনি বিকল হয়ে মারা যাওয়ার তথ্য জানিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'একজন কিডনি রোগী তাঁর দুটি কিডনিই যখন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বিকল হয়ে পড়ে তখনই তিনি এ রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে যাঁদের বেশি টাকা আছে, তাঁরাই হয়তো ব্যয়বহুল ডায়ালাইসিস বা দেশের বাইরে গিয়ে আরো কোনো উন্নত চিকিৎসার সুবিধা নিতে পারেন। দরিদ্র বা মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্ষেত্রে এমন সুবিধা বেশি দিন চালিয়ে নেওয়া একেবারেই দুরূহ।'
ডা. সালাহ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, 'এ দেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যেসব চিকিৎসা সুবিধা আছে, সেগুলো একে তো পর্যাপ্ত নয়, তার ওপর বিভিন্ন সমস্যার কারণে এসব ব্যবস্থাপনার বেশির ভাগই অকার্যকর। তাই সরকারের উচিত দেশব্যাপী কিডনি চিকিৎসাব্যবস্থাপনা আরো জোরদার করা। এ ক্ষেত্রে প্রাইভেট উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসা উচিত।'
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, 'যেসব সরকারি হাসপাতালে কিডনি ইউনিট রয়েছে, সেগুলোকে যথাযথভাবে কার্যকর করাসহ নতুন করে বিভিন্ন হাসপাতালে কিডনি চিকিৎসার ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু করা হবে। এ ছাড়া মেডিক্যাল কলেজেও নেফ্রোলজি ও ইউরোলজির বিভাগকে আরো শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতি নেই। কোনো কোনো হাসপাতালে ডায়ালাইসিস মেশিনগুলো অচল হয়ে পড়ে আছে অনেকদিন ধরে। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোয় এ চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল।
কিডনি রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, বিশ্বব্যাপী কিডনি রোগীর সংখ্যা এবং এর কারণে মৃত্যুর সংখ্যা সঠিকভাবে গণনা করা হয়ে ওঠে না। কারণ একজন কিডনি রোগী হৃদরোগে মারা গেলে মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ বলেই উল্লেখ করা হয়। কেবল যাঁরা কিডনি রোগের শেষ ধাপে পেঁৗছে কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, তাঁদের নামই শুধু লিপিবদ্ধ করা হয় কিডনি রোগে মৃত্যুর তালিকায়।
ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, 'কিডনি রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে সচেতনতা। আগেভাগেই যদি এ রোগ ও রোগের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা যায়, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করা যায়, তবেই কিডনি বিকল হয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব।'
বিশেষজ্ঞরা বলেন, 'কিডনি বিকলপর্যায়ের রোগীকে ডায়ালাইসিস এবং পরবর্তী সময়ে কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা হয়। ডায়ালাইসিস এবং প্রতিস্থাপন ব্যয়বহুল হওয়ায় এ দেশের ৯৫ শতাংশ রোগীর পক্ষেই এই চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। শুধু ডায়ালাইসিস (যন্ত্রের মাধ্যমে রক্ত পরিশুদ্ধ করা) বছরে একজন রোগীর প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়। এ ছাড়া কিডনি পাওয়া সাপেক্ষে কিডনি প্রতিস্থাপনে খরচ কমবেশী পাঁচ লাখ টাকা, পাশাপাশি ওষুধের খরচ চালাতে হবে বাকি জীবন।'
এদিকে ন্যাশনাল কিডনি ডিজেজ অ্যান্ড ইউরোলজি ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে পরিচালিত ২০০৬-০৯ সাল পর্যন্ত জরিপের ফলাফলে জানা গেছে, কিডনি রোগে আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক (৬৫ শতাংশ) হচ্ছে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী। এ ছাড়া ৩০ শতাংশ রয়েছে ৫০ বছরের ওপরে, ৪ শতাংশ রয়েছে পাঁচ থেকে ১৪ বছর বয়সের এবং মাত্র ১ শতাংশ রয়েছে এক থেকে চার বছর বয়সের। এদিকে আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ব কিডনি দিবস পালন উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

Source: http://www.kalerkantho.com, 10th march, 2011
শরীয়তপুরে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন ৫ শতাধিক দরিদ্র মানুষ
কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) উদ্যোগে শরীয়তপুর পৌরসভায় দিনব্যাপী ফ্রি কিডনি ক্যাম্প ও সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ কিডনি চিকিৎসকসহ ১০ চিকিৎসক শরীয়তপুরসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ৫ শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র দেন এবং এর মাধ্যমে দুই শতাধিক রোগীর কিডনি রোগ নির্ণয়, ডায়াবেটিস ও ইউরিন পরীক্ষা কা হয়।
অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ সানোয়ার হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কিডনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এমএ সামাদ, সিভিল সার্জন ডা. মোঃ গোলাম সারোয়ার, পুলিশ সুপার একেএম শহিদুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল ফজল মাস্টার, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোঃ সুলতান হোসেন মিয়া, ক্যাম্পসের মহাপরিচালক নাসরিন বেগম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, শরীয়তপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মির্জা এ সাইদ প্রমুখ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

Source: http://www.samakal.com.bd
১৭ জানুয়ারি ২০১১


সুমন কুমার রায় , টাঙ্গাইল থেকে
তাজাখবর ডটনেট

বাংলাদেশের প্রায় ২ কোটি লোক কোন না কোন কিডনী রোগে আক্রান্ত। কিডনী সম্পূর্ণ বিকল হয়ে প্রতিঘন্টায় ৫ জন কিডনী রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। কিডনী বিকল রোগী বেচে থাকার একমাত্র উপায় ডায়ালাইসিস অথবা কিডনী সংযোজন। কিডনী রোগীদের ডায়ালাইসিসসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা দিতে টাঙ্গাইলে ক্যাম্পস কিডনী সেন্টারের উদ্ভোধন করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইল রেজিষ্ট্রিপাড়া ক্যাম্পস কিডনী সেন্টারের উদ্ভোধন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অবঃ) মজিবুর রহমান ফকির।
বুরো বাংলাদেশ ট্রেনিং সেন্টারে আয়োজিত উদ্ধোধনী অণুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সুপ্রিম কোর্টে সিনিয়র আইনজীবী সাবেক এটর্নী জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক উল হক, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ফজলুর রহমান ফারুক, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক এম বজলুল করিম চৌধুরী, সির্ভিল সার্জন ডা. আব্দুল বাছিত ও কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ।
উদ্ধোধনী অণুষ্ঠানের আগে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও অতিথিবৃন্দ ক্যাম্পস কিডনী সেন্টারে ডায়ালাইসিস রোগীদের ঘুরে দেখেন।


Related Link:

Tuesday, March 1, 2011

দেশেই বিনামূল্যে কিডনি সংযোজন চলছে, পাশ্বপ্রতিক্রিয়া নেই: দাতা হতে হবে নিকটাত্মীয়

দেশেই বিনামূল্যে কিডনি সংযোজন চলছে, পাশ্বপ্রতিক্রিয়া নেই
দাতা হতে হবে নিকটাত্মীয়

বশিরুল ইসলাম ॥ আর নয় বিদেশে, দেশেই বিনা টাকায় কিডনি সংযোজন কার্যকম শুরম্ন করেছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ও ইউরোলজি হাসপাতালে। পাশাপাশি দেশের বেশ কয়েকটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে নামমাত্র খরচে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। কোন পাশর্্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই চলছে একের পর এক কিডনি সংযোজন। জাতীয় কিডনি হাসপাতালে সংযোজিত কিডনি নিয়ে অনেক মানুষ বছরের পর বছর বেঁচে আছেন। চালিয়ে যাচ্ছেন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন। ব্রেন ডেথ তথা মৃত ব্যক্তির কিডনি সংযোজনের প্রস্তুতি চলছে হাসপাতালে। একই চিকিৎসা বিদেশে করাতে হলে ব্যয় পড়ে ৮ থেকে ১৫ লাখ টাকা।
কিডনি সংযোজনপরবর্তী চিকিৎসার অংশ হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হাসপাতালে এসেছেন রাজশাহী বাগমারা উপজেলা কাঁঠালপাড়ার সাহেরা বেগম (৩৮)। তাঁর সঙ্গে রয়েছে প্রিয় সনত্মান মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৩)। দু'টি কিডনি নষ্ট হয়ে গেলে সাইফুলের জন্য একটি কিডনি দেন মা সাহেরা বেগম। ২০১০ সালের ২৬ ডিসেম্বর মায়ের দেয়া কিডনি সংযোজন করা হয় সাইফুলের শরীরে। হাসপাতালে ইউরোলজি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ কামরম্নল ইসলাম ও ডা. মোসাঃ রমির ১১৯ নম্বর কক্ষে বসে আলাপ হয় সাহেরা বেগম ও তাঁর ছেলে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। সাহেরা বেগম জনকণ্ঠকে জানান, সনত্মানকে বাঁ পাশের কিডনি দিয়েছি আমি। কিডনি দেয়ার প্রায় দুই মাস পার হয়ে গেছে। দেখা দেয়নি কোন পাশর্্বপ্রতিক্রিয়া। স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছি। হাসপাতালে বিনা টাকায় কিডনি সংযোজন করি এবং সংযোজনপরবর্তী ওষুধের খরচসহ ২ লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়েছে বলে তিনি জানান। কিডনি সংযোজনের পর স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে বলে হাসিমুখে জানায় সাহেরার ছেলে সাইফুল ইসলাম। ডা. মোঃ কামরম্নল ইসলামও জানান, বর্তমানে তারা দু'জনের স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। চার মাস পর সাইফুল তার আগে মতো সকল কাজকর্ম করতে পারবে।
কিডনি সংযোজনের সফলতার কথা হাসপাতালে পরিচালক অধ্যাপক ডা. জামানুল ইসলাম ভুঁইয়া জনকণ্ঠকে জানান, ২০০৮ সাল থেকে এই হাসপাতালে জীবিত নিকটাত্মীয়ের কিডনি সংযোজন কার্যক্রম সফলতার সঙ্গে চলে আসছে। এ পর্যনত্ম কিডনিদাতা ও রোগী কোন ধরনের সমস্যায় পড়েননি। প্রতি শনিবার আমরা এই প্রতিষ্ঠানে বিনা টাকায় কিডনি সংযোজন করছি। তবে এক্ষেত্রে কিডনি ডোনার থাকতে হবে। তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে শুধু জীবিত নিকটাত্মীয়ের মধ্যে কিডনি সংযোজন হচ্ছে। ব্রেন ডেথ তথা মৃত ব্যক্তির কিডনি সংযোজনের প্রস্তুতি চলছে হাসপাতালে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেফ্রোলজি, ইউরোলজি ও এ্যানেস্থেসিওলোজি বিভাগের সমন্বয়ে প্রতি সপ্তাহে একটি করে কিডনি সংযোজন হচ্ছে। এ ছাড়া কিডনি ফাউন্ডেশন, বারডেম হাসপাতাল এবং সম্প্রতি ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়মিতভাবে কিডনি সংযোজন চলছে।
মৃত ব্যক্তি ও জীবিত নিকটাত্মীয়ের যে কোন একটি কিডনি নিয়ে সংযোজন করা যায়। রোগীর কিডনি দু'টি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেলে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজন হয় ডায়ালিসিসের। রোগীর উপসর্গের ইতিহাস, রক্তের ক্রিয়েটিনিন, ইউরিয়া, ইলেকট্রোলাইট, সনোগ্রাম করে কিডনির অবস্থান ও সাইজ দেখা, জিএফআর অথবা সিআর ইত্যাদি দিক পরীক্ষা করে কিডনি অকেজো নির্ণয় করা হয়। কিডনি সম্পূর্ণ অকেজো জানার পরই ডায়ালিসিস করার সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়। পেরিটোনিয়েল ডায়ালিসিস ও হেমোডায়ালিসিস_এ দু'ধরনের ডায়ালিসিসের প্রচলন রয়েছে। তবে হেমোডায়ালিসিস শুরম্ন করার আগে সাধারণত বাঁ হাতের কব্জির ওপরে একটি এ-ভি ফিস্টুলা তৈরি করে নেয়া হয় যা পরিপক্ব হতে এক থেকে দেড় মাস সময় লাগে। হেমোডায়ালিসিস বা মেশিনের পাশাপাশি রোগীকে ও তাঁর নিকটপরিজনকে রোগ সম্পর্কে ধারণা, চিকিৎসার ভবিষ্যত পরিকল্পনা, সুযোগ-সুবিধা এবং আর্থিক দিক সম্পর্কেও ধারণা দেয়া হয়। একজন রোগীকে সবদিক বিবেচনা করে যখন কিডনি সংযোজন কর্মসূচীতে যখন মনোনীত করা হয় তখন সেই রোগীকে কিডনি সংযোজনের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিডনিদাতা পাওয়া না গেলে ডায়ালিসিস চালু রাখতে হয়। এ জন্য বছরে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। আর প্রাইভেট হাসপাতালে ডায়ালিসিস করাতেই প্রায় ৩ লাখ টাকার মতো খরচ হয়। বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, নিজেরা কিডনি দেয়ার পরও সিঙ্গাপুরে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা, থাইল্যান্ডে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং ভারতে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা লাগে সংযোজনের জন্য।

Source: http://www.dailyjanakantha.com
১ মার্চ ২০১১

Wednesday, February 9, 2011

৫০ ভাগ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেবে সিআরপি

সাভার, ০৯ ফেব্র“য়ারী , 2011

সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্থদের পুর্ণবাসন কেন্দ্র (সিআরপি)-তে ভর্তিকৃত মেরুরজ্জুতে আঘাতপ্রাপ্ত ৫০ ভাগ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়ার ঘোষনা দিয়েছেন সিআরপি’র প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়কারী ভ্যালরী এ টেইলর। মঙ্গলবার বিকেলে সিআরপিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষনা দেন।

ফ্রেন্টস অব সিআরপি’র আজিজ ইউ আহমদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সিআরপি’র নির্বাহী পরিচালক এমদাদ মোসলেমসহ কর্মকর্তা, চিকিৎসাধীন রোগী, বিদেশী ভলানটিয়ার প্রমুখ।

ভ্যালরী এ টেইলর বলেন, সঠিক ও সহজলভ্য চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে মেরুরজ্জুতে আঘাতপ্রাপ্ত ভর্তিকৃত রোগীদের সুস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিআরপি এ ধরনের কর্মসূচী হাতে নিয়েছে।

দরিদ্রতার কারনে মেরুরজ্জুতে আঘাতপ্রাপ্ত অধিকাংশ রোগী সঠিক চিকিৎসা পায় না। তাই শতকরা ৫০ ভাগ রোগীর বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের উদ্যোগে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সেবা লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, প্রতিবছর প্রায় ৩৫০ জন মেরুরজ্জুতে আঘাতজনিত রোগী সিআরপিতে ভর্তি হয়।

সিআরপি-বাংলাদেশ

Centre for the Rehabilitation of the Paralysed(CRP)। জনসাধারণের কাছে সিআরপি নামে ব্যাপক পরিচিত। সংস্থাটি বাংলাদেশ ও বৃটেনের কয়েকজন ফিজিওথেরাপিষ্টদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৭৯সাল থেকে সিআরপি-বাংলাদেশ দেশের পক্ষাঘাত গ্রস্থদের পূণর্বাসনে কাজ করে যাচ্ছে। পক্ষাঘাতগ্রস্তদের উন্নয়নের সাথে সিআরপি মানবাধিকার, দারিদ্র্য হ্রাস, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে বাংলাদেশে শতকরা দশ ভাগ প্রতিবন্ধী আছেন। অথচ এই বিশাল অংশ জনগোষ্ঠীর জন্য শুধু মাত্র সিআরপি কাজ করে থাকে। সংস্থাটির হেড অফিস সাভারে অবস্থিত। সেখানে রোগীদের চিকিৎসার জন্য রয়েছে ১০০বেড বিশিষ্ট একটি স্পেশাল হাসপাতাল। এছাড়াও মিরপুর, গনকবাড়ি, গোবিন্দাপুর ও মানিকগঞ্জে সংস্থাটির সাব-অফিস রয়েছে। পক্ষাঘাতগ্রস্থদের পাশাপাশি হোপাটাইটিস-বি ও যৌনবাহিত রোগ বালাই নিয়ে কাজ করে থাকে।

Centre for the Rehabilitation of the Paralysed (CRP)

PO CRP-Chapain
Savar
Dhaka 1343
Bangladesh
Tel: (880)2 7745464-5
Fax: (880)2 7745069

e-mail: info@crp-bangladesh.org

ওয়েব: www.crp-bangladesh.org


সিআরপিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করেছে হুয়াওয়ে

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি অবকাঠামো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে টেকনোলজি তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির (সিএসআর) অংশ হিসেবে সেন্টার ফর দি রি-হ্যাবিলিটেশন অব দি প্যারালাইসড-সিআরপিতে একটি কম্পিউটার ল্যাব তৈরি প্রতিষ্ঠা করেছে। এই ল্যাব সিআরপিতে আসা প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থান তৈরির জন্য প্রশিক্ষণে সহায়তা করবে।

সাভারে সিআরপির প্রধান কার্যালয়ে গত বুধবার ১৯ অক্টোবর২০১১, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ এএসএম ফিরোজ এমপি। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝিং জিয়ানি, হুয়াওয়ে টেকনোলজিস বাংলাদেশ লিমিটেডের সিইও ওয়ান্ডার ওয়াং এবং সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ও কো-অর্ডিনেটর ভেলরি টেইলর উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এএসএম ফিরোজ বলেন, হুয়াওয়ের এই কম্পিউটার ল্যাব প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীদের আত্মকর্মসংস্থানে সহায়ক হবে। আমরা চাই এ ধরনের উদ্যোগ তারা অব্যাহত রাখুক।

চীনের রাষ্ট্রদূত ঝিং জিয়ানি বলেন, এখানে কেবল ব্যবসা নয়, হুয়াওয়ে সিএসআরের যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, তা এখানকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগছে।

ওয়ান্ডার ওয়াং বলেন, আমরা মানুষকে ভালোবেসে তাদের আরও কাছে যেতে চাই। যোগাযোগ সেবার পাশাপাশি মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং তাদের এগিয়ে নেয়ার খাতিরে কিছু সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। এর আগে বুয়েটে আমরা একটি জিএসএম ল্যাব করেছি। সিআরপিতে এবার কম্পিউটার ল্যাব করলাম। আগামীতে এ ধরনের কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হবে এবং তা অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিবন্ধী শিশুরা এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নেয়।


http://www.education24bd.com

25 Oct 2011

Wednesday, January 19, 2011

ঠোঁট তালু নাক ও গাল কাটা শিশুদের অস্ত্রোপচারে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসক দল


দেশের ঠোঁট কাটা, তালু কাটা, নাক ও গাল কাটা শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে সিঙ্গাপুর থেকে এক দল তরুণ চিকিৎসক এসেছেন বাংলাদেশে। তারা শিশুদের অস্ত্রোপচার করে বিকৃত চেহারা ঠিক করে দেবেন। এজন্য কোন ফি লাগবে না। মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে কেয়ার হাসপাতালে সোমবার (তারিখ: ১৭-০১-২০১১)শুরু হয়েছে অপারেশন স্মাইল বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা ইউনিসেফের সহায়তায় বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর ফ্রেন্ডশিপ মিশনের উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো শুরু হচ্ছে বিনামূল্যের এ চিকিৎসা সেবা। এবার বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাছাই করা ১০০ শিশুকে অস্ত্রোপচার করা হবে। এ বিষয়ে কেয়ার হাসপাতালে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অপারেশন স্মাইল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাইদ সিদ্দিকী, কেয়ার হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক পারভিন ফাতেমা, অপারেশন স্মাইল- সিঙ্গাপুরের ডা. ভিনসেন্ট ইয়া, অপারেশন স্মাইল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বিনা ফাইজ প্রমুখ। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি
Source: Daily Ittefaq